মাইজভান্ডার শরীফ » সাজ্জাদানশীন

সাজ্জাদানশীন

গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) এর উত্তরাধীকারীঃ গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) ওফাতের পূর্বে আপন নাতী হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) কে বালেগ ঘোষনা করে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে আধ্যাত্মিক উত্তরাধীকারী নীর্ধারন করে যান। হযরত কেবলা (কঃ) এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমার ‘দেলা ময়না’ বালেগ। দেলা ময়না গদীতে বসবে”।

বর্তমান পীরে ত্বরিকত ও সাজ্জাদানশীনঃ হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) পীর হওয়ার জন্য খেলাফতপ্রাপ্ত হওয়ার শর্তের প্রবক্তা ছিলেন। তার দৃষ্টিতে যিনি আপন পীর সাহেবের কাছ থেকে সরাসরি ও স্পষ্টভাবে খেলাফত পাননি তিনি কাওকে বায়াত দেওয়ার যোগ্য নন।

খেলাফত প্রদানপূর্বক সাজ্জাদানশীন মনোনয়ন এর মাধ্যমে গাউছিয়ত জারী রাখার নিয়মের অনুসরণে হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) তাঁর জীবদ্দশায় তদীয় তৃতীয় পুত্র হযরত সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মঃ জিঃ আঃ) কে নিজ গদীর উত্তরাধীকারি ও মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন সাব্যস্ত করে যান।

তিনি শাহ সুফী হযরত সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মঃ জিঃ আঃ) কে সাজ্জাদানশীনের দায়িত্ব অর্পনের বিষয়টি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও তাঁর লিখিত ‘মানব সভ্যতা’ নামক বইয়ের ভূমিকাংশে তিনি উল্ল্যেখের মাধ্যমে প্রামান্য করেন।

‘মানব সভ্যতা’ নামক বইয়ের ভূমিকাংশে তিনি উল্ল্যেখ করেন, “ অত্র বইটি আমার জীবন সায়াহ্নে ছাপাইয়া যাইতে পারিব কিনা তা ভবিতব্য খোদাই তাহা ভাল জানেন। তাই বইটি ছাপাইবার জন্য আমাদের প্রচলিত “আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারী” সমাজ-সংস্কার ও নৈতিক উন্নয়ন মূলক সমাজ সংগঠক পদ্ধতির সফলতার উদ্দেশ্যে হানাফী মাযহাব এজমা ফতোয়ার ভিত্তিতে আমি যে ভাবে কামেল অলিউল্লাহ্‌র নির্দেশিত উত্তরাধীকারী গদীর সাজ্জাদানশীন সাব্যস্ত তদ্‌মতে আমার ছেলেদের মধ্যে যোগ্যতম ব্যক্তি সৈয়দ এমদাদুল হক মিঞাকে “সাজ্জাদানশীন” মনোনীত করিবার পর এই গ্রন্থটি তাহার হস্তে অর্পন করিলাম।”

সাজ্জাদানশীন এর আধ্যাত্মিক অবস্থানের প্রতি শাহানশাহ্‌ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (কঃ) এর স্বীকৃতিঃ একদিন শাহানশাহ্‌ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (কঃ) তাঁর পূর্ব বাড়ী থেকে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিল আসেন। হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (কঃ) আপন ছোট ভাই শাহ সুফী হযরত সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মঃ জিঃ আঃ) কে অছীয়ে গাউছুল আজম হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) এর চেয়ার বসার জন্য বলেন। মুর্শিদের প্রতি আদব রক্ষার্থে তিনি আপন মুর্শিদের চেয়ারে বসতে ইতস্ততঃ করতে থাকেন। কিন্তু বড় ভাই চেয়ারে বসার জন্য তাকে বারবার পীড়াপীড়ী করতে থাকেন।

একদিকে মুর্শিদের প্রতি সম্মান ও আদব রক্ষা অন্যদিকে বড় ভাইয়ের পীড়াপীড়ী এহেন অবস্থায় তিনি উপস্থিত ভগ্নিপতি অনুরোধ করেন তাঁর বাবা ও মুর্শিদকে পরিস্থিতি জানিয়ে দিক নির্দেশনা জানার জন্য।

 

হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) ঘঠনা শুনে তৎকালীন নায়েব সাজ্জাদানশীন হযরত সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মঃ জিঃ আঃ) কে তাঁর চেয়ারে বসতে বলেন। তখন তিনি চেয়ারে বসেন। হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (কঃ) মোনাজাত করেন। এরপর খাদেম কে আদেশ করেন চেয়ারটি নিয়ে শাহী ময়দানের মাঝখানে রাখতে। খাদেম চেয়ারটিকে সেখানে নিয়ে রাখলে তিনি আবারও চেয়ারে বসতে বলেন। এবং মোনাজাত করেন।

হযরত সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভান্ডারী (কঃ) এ ঘঠনার রহস্য প্রকাশ করে বলেন হযরত সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মঃ জিঃ আঃ) এর রূহানী উত্তরাধীকারকে হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (কঃ) এই ধরনের রূপক কাজের মাধ্যমে স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন।

মাইজভান্ডারী ত্বরিকার অনুসারীদের প্রতি বর্তমান সাজ্জাদানশীন এর দিক নির্দেশনাঃ বর্তমান সাজ্জাদানশীন হযরত সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (মঃ জিঃ আঃ) আধ্যাত্মিক সাধনায় সফলতা লাভের জন্য শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোরারোপ করেন। তিনি বায়াত প্রদানকালে মুরিদদের সবসময় বলেন, “শরীয়ত কে বাদ দিয়ে ত্বরিকত নাই”।

তিনি বায়াত প্রদানকালে মুরিদদের প্রথম যে বিষয়ের জন্য বলেন তা হচ্ছে নিয়মিত নামাজ পড়া; রোযা রাখা; সামর্থ্য থাকলে হজ্ব-যাকাত আদায় করা অর্থাৎ শরীয়ত পালন করা।